Friday, December 11, 2015

খাদ্য আন্দোলন

                                        পশ্চিম বঙ্গে খাদ্য আন্দোলন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে শেষ হতে না হতেই দেশ জুড়ে জ্বালানী তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল । পশ্চিম বঙ্গে দেখা দিল কেরসিন তেলের তীব্র সংকটের সাথে খাদ্য সংকট । রাজ্যে কংগ্রেসি মন্ত্রী সভা , মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার সেন । ১৯৬৬ সালে ১৬ই ফেব্রুয়ারি বসিরহা টে স্বরুপ নগরে কেরোসিন তেলের লাইনে পুলিশের গুলিতে ছাত্র নুরুল ইসলাম নিহত হল । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্তুন গড়ে ওঠা কমিউনিস্ট পার্টী { মার্ক্সবাদী } এর ছাত্র ফ্রন্ট সময়োচিত নেতৃত্বে এগিয়ে আসে । বিশ্ব বিদ্যালয়, কলেজ , স্কুল সর্ব স্তরের ছাত্র সমাজ পাল্টা ছাত্র ফেডারেশনের ব্যানারে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে এলো । পার্টীর গোপন কেন্দ্র থেকে সহযোগিতায় ছাত্র ফ্রন্টের গোপন ও প্রকাশ্য নেতৃত্বে মিলে জঙ্গি খাদ্য সংগঠিত করার রণকৌশল ঠিক করে । তরুণ ছাত্র যুব কর্মীদের মধ্যে দারুন উৎসাহ । কলকাতার সীমানা ছেড়ে ২৪ পরগনা , হাওড়া , হুগলী , নদীয়া সহ উত্তর বঙ্গে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে । ন্তুন গড়া কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র ফ্রন্টের উপর পুলিশি আক্রমণ তীব্র করা হয় । যেসব ছাত্র নেতা বাইরে ছিল তাদের একে একে জেলে আটক ক্রা হল । ছাত্র ফ্রন্টের নেতাদের গ্রেপ্তারের খবর গোপন নেতৃত্বের কাছে আসতে থাকে । যারা গ্রেপ্তার হলেন তাদের মধ্যে শৈবাল মিত্র ,সুভাষ চক্রবর্তী , শ্যামল  চক্রবর্তী অনিল বিশ্বাস আজিজুল হক প্রমুখ । এই আন্দোলন শুধু আর ছাত্রদের থাকল না ।
সর্ব স্তরের মানুষ এই আন্দোলনের সমর্থনে এগিয়ে এলো । হরতাল ,ধর্মঘট ,অবরোধ ,ঘেরাও ,প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য আন্দোলনকে উন্নত করা হল এক সংগ্রামী গণআন্দোলনে । কো ন্ন গড় ,চন্দন নগর নবদ্বীপ কৃষ্ণনগরে এবং কলকাতার রাস্তায় সশস্ত্র পুলিশের আক্রমণ মোকাবিলা করে ছাত্র যুব সমাজের সাথে ঐ ক্য বদ্ধ দাড়িয়ে ছিল সাধারন মানুষ । ব্যারিকেড তৈরি সশস্ত্র পুলিশের মুখোমুখি লড়াই । কৃষ্ণনগরে পুলিশের গুলি বৃষ্টির মধ্যে প্রকাশ্য রাজপথে ছাত্র মিছিল এগিয়ে চলে ।
আনন্দ হাইত পুলিশের গুলিতে শহিদের মৃত্যু বরন করল । মিছিলের অগ্রবর্তী ছাত্ররা গায়ের জামা খুলে বুক চাপরাতে চাপরাতে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দিকে এগিয়ে গেল । চিৎকার করে ছাত্ররা বলতে লাগল "কত গুলি আছে তোমাদের গুলি করে আমাদের সবাইকে মার " । সংগ্রামী ছাত্র জনতার এই অকুতোভয় সাহসে পুলিশ বাহিনী স্তব্ধ ,তাদের উদ্ধত রাইফেল অবনত । তীব্র আক্রোশ ও রোষের মুখে পুলিশ পিছু হটে । উত্তাল জনতার প্রতিরোধে পুলিশ যায় ব্যারাকে । গন রোষে সেদিন বহু সরকারি সম্পত্তি ভস্মীভূত হয়েছিল ।
এখানে  পথ সম্পর্কে  জীবনে শেষ  প্রান্তে মুল্যায়ন করেছি  যে প্রসঙ্গ পরে আলোচনা  করব ।
লাগাতার দু-তিন মাস ব্যাপি আন্দোলনের ফলে পশ্চিম বঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গিয়ে ছিল । কমিউনিস্ট নেতৃত্বে এই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে  বন্দী মুক্তি দাবি জুড়ে দিয়ে ছিল  ।
পশ্চিম বঙ্গে ১৯৬৬ সালে খাদ্য আন্দোলন সংগ্রামী গণআন্দোলনের ইতিহাসে একটি সংগ্রামী ইতিহাস  এর উপর আলাদা ইতিহাস রচনা হতে পারে ।।

No comments: